প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 3, 2026 ইং
কাবাডিতে হেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র আহত

কুষ্টিয়ায় গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডি খেলায় হেরে প্রতিপক্ষ দলের শিক্ষার্থীদের হামলা ও ছুরিকাঘাতে রাফিউস সালেহ রক্তিম (১৬) নামে এক স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রক্তিম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা এলাকার মুন্সি সালামের ছেলে। সে দহকুলা মহম্মদ শাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৬তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দহকুলা মহম্মদ শাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা কালেক্টরেট স্কুলের মধ্যে কাবাডি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় দহকুলা মহম্মদ শাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪৪-২৮ পয়েন্টে জয় পায়।
খেলা শেষে পরাজিত দলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ১২ নম্বর জার্সি পরা খেলোয়াড় রক্তিমের ওপর হামলা চালিয়ে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় মাছুম নামে আরও এক শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে শিক্ষক ও সহপাঠীরা রক্তিমকে উদ্ধার করে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
মাছুমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, ছুরিকাঘাতে আহত এক স্কুলছাত্রকে ঘটনার পরপরই হাসপাতালে আনা হয়। তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে শঙ্কামুক্ত।
দহকুলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খন্দকার নজরুল ইসলাম বলেন, খেলার শেষ দিকে প্রতিপক্ষ দলটি হেরে যাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
পরে ৪৪-২৮ পয়েন্টে আমাদের দল জয়ী হওয়ার পর তারা অতর্কিত হামলা চালায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, কাবাডি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ দলের শিক্ষার্থীদের হামলার সময় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেছেন।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। পাশাপাশি ঘটনার জেরে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, শাহীন ক্যাডেট স্কুল, কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এবং কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানেও চার শিক্ষার্থীর নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Daily Satto Khobor